যতই বা হোক ওপর ওপর কথা
পিএইচডি জীবনের সুখ, ব্যথা
আগাম পরবের অনিশ্চয়তা
দৈনন্দিন জীবনের কান্না গাথা
সব মাঝে ঠিক উঁকি মারে
সেই প্রশ্নটা
কেনই বা না হবে বল?
প্রাসঙ্গিক কৌতূহল
এক কালে তো ছিলাম বন্ধু যুগল
এক বেঞ্চিতে বসে
জার্নালেতে জীবন কষে
পূর্ণ হতো মনের শূন্যতা
বিদেশ বাবু, আর কি করিস বাড়ি ফিরে?
সপ্তাহের শেষটা কি যায় ধীরে ধীরে?
রান্না বান্না করিস কতটা?
তুই যে আছিস আগের মতন
জানতে চাস, আবার তোর ভয়ও করে
একটা ছোঁয়ায় গোলাপ ফুলের
পাপড়ির মতো যদি ঝরে পড়ে
এতো কালের আলগা বন্ধুত্ব
তাই আড়াল থেকে উঁকি মারে প্রশ্নটা
আমার হয়েছে একটু বদল
আগের নির্ভয় খোলা মনটা
দেখায় চেহারা নকল
তাই, ঠিক যখন দেখি ফাঁকে
বেরিয়ে আসা প্রশ্নটাকে
এড়িয়ে যাই, যেন দেখিই নাই
দেই দোহাই
বড় হওয়ার বাস্তবিকতা
কিন্তু মনের কোণে
রয়েছে সেই বালক সঙ্গোপনে
শুধু বড় হওয়ার ফলে
লেখে সে কবিতার ছলে
যা মুখে বলার নেই যো
সেই প্রশ্নের উত্তর সমূহ
জুটলো কেউ? পড়লি কি প্রেমে?
না ঘুরছিস মাঠে ঘাটে?
বাড়ি ফিরে, হয় কি আলাপ
কোনো বিশেষ মানুষের সাথে?
সপ্তাহের শেষের সাধের রান্না
পড়ে কি তার পাতে?
কোথায় যে শুরু করি?
কি করে যে বলি তোকে?
এতদিন যা রেখেছি চেপে
কি বা লাভ আর ধরে রেখে?
কি বা লাভ আর দিয়ে ছেড়ে?
বলতে পারি, যদি করিস না কিছু মনে
ওই যে বালক কালের দিন গুলো
উড়ে এসে নতুন বাসায়
নতুন বন্ধু পাওয়ার আশায়
ভরে থাকতো মনে প্রাণে
বুঝিনি তখন তার কি মানে
কোথা কার এক অদ্ভুত টানে
মনে হতো সুরে গানে
শুধু লিখি-গাই তোর নাম
সরিয়ে রেখে সব জড়তা
আস্তে আস্তে বছর গেলো
বিদ্যালয় শেষে বিশ্ববিদ্যালয় এলো
রাখলাম পা চেতনার জগতে
চোখ মেলে দেখি
ব্যতিক্রম তাই হয়েছে স্বাভাবিক
নিজেকে জানা, চেনা, খোঁজা, পাওয়া
এতেই গেলো বাকি বছর কটা
পথটা মোটেই সোজা নয়
কার পথই বা সোজা হয়?
তাও প্রেমের কথা বললে
ভাবি, লাভ কি আছে করলে?
এতো বার তো গিয়ে এলাম ফিরে
বন্ধ দরজায় কড়া নেড়ে
এবার পথিক ক্লান্ত হয়ে
ধৈর্যের পথে পড়েছে রয়ে
করলেও বা খানিক চেষ্টা
কপালের দায়ে অবশেষটা
হাল ছাড়িনি তবু
যদি মেলে সে কভু
গোপনে করি আশা
পাবো ফিরে কারো ভালোবাসা
নিজেকে জেনে ও জানিয়ে
যদি সবে নেয় মানিয়ে
খাওয়াবো ব্যঞ্জন
লুটাবো সকলে বাতাসা
লাগলো কেমন সত্যি শুনে?
পড়লো কি পুরোনো দিন মনে?
যা ছিলাম সব
তাই আছি না আজ, গভীর কোণে?
সরব নীরবতা ভালো ভালো
বৈচিত্র্যতাই তো জগতের আলো
জ্ঞাপন করি সবার শেষে
শোনার জন্য কৃতজ্ঞতা